বিজ্ঞাপন
একাধিক বিভাগে শিক্ষক ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়ে অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। বর্তমানে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ (ACCE) ২ জন, পরিসংখ্যানে ১ জন, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (IIT)-তে ১ জন, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্স (IIS)-এ ২ জন, শিক্ষা প্রশাসনে ১ জন, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (BMB)-তে ১ জন, সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে (SWES) ১ জন এবং রসায়নে ১ জন অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, একই সাথে কোনো বিভাগের বড় অংশের শিক্ষক বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান, গবেষণা তত্ত্বাবধান ও একাডেমিক গাইডেন্সে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিভাগ থেকে একসাথে কতজন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে বা বাইরে থাকতে পারবেন এবং শূন্যপদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ বা বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায় প্রশাসন (DBA) বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কিছু বিষয়ে মাত্র একজন শিক্ষক থাকায় তাঁকে একাধিক ব্যাচে পাঠদান করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও সিলেবাস সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁরা শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিরোধিতা না করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং বিকল্প শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষাছুটি দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় এবং সেই শূন্যস্থান তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ না হওয়ায় কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে ছয় থেকে সাতটি ব্যাচ সচল থাকায় এবং ক্লাসরুম সংকটের কারণে সীমিত শিক্ষক দিয়ে নিয়মিত ক্লাসগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাই উচ্চশিক্ষায় যাওয়া শিক্ষকদের বিপরীতে বিকল্প বা খণ্ডকালীন (গেস্ট) শিক্ষক রাখার ব্যবস্থা করার জন্য তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
শিক্ষক সংকট ও শিক্ষাছুটি প্রসঙ্গে ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষাছুটি শিক্ষকদের একটি পাওনা ও একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য জরুরি বিষয় এবং আইনগতভাবেও শিক্ষকদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষাছুটির বিকল্প বা শিক্ষক ঘাটতি মেটাতে ইউজিসির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে শিক্ষক নিয়োগ কিংবা প্রয়োজনে ইউজিসির অনুমোদনক্রমে গেস্ট শিক্ষক বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে শূন্যতা পূরণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...