Logo Logo

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ উপেক্ষা: বদলি না হয়ে কর্ণফুলী থানাতেই দায়িত্ব পালন করছেন এএসআই রুহুল


Splash Image

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বদলির নির্দেশনার পর পেরিয়ে গেছে সাড়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময়। দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয় দফায় লিখিত তাগাদাপত্রও। অথচ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কর্ণফুলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া এখনো পুরোনো কর্মস্থলেই বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বদলি কার্যকর না হওয়া এবং একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, নাগরিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক বাণিজ্যে সহায়তাসহ একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


প্রশাসনিক নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অভ্যন্তরীণভাবে বদলি করা হয়। তালিকায় ছিলেন এএসআই রুহুল আমিন ভূঁইয়াও। পরবর্তীতে বদলিকৃত কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনেও ছাড়পত্র না দেওয়ায় কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ৫ জুলাই আরেকটি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে ছাড়পত্র দেওয়ার স্পষ্ট তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশের বাকি চারজন কর্মকর্তা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিলেও সাড়ে পাঁচ মাস পরও এএসআই রুহুল আমিনের বদলি কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এগুলো নিয়ে আপনারাও মাথা ঘামান?” এরপর থানার জনবল সংকটের যুক্তি দেখিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “অন্য থেকে একজন আসলে এই থানা থেকে একজন যাবে, নইলে তো মাইর খেয়ে চিত হয়ে যাব।” ওসির এই বক্তব্য জনবল ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট করলেও প্রশ্ন উঠছে—উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার বিপরীতে কোনো লিখিত অনুমোদন ছাড়া এভাবে কাউকে অনির্দিষ্টকাল বহাল রাখা প্রশাসনিক বিধিসম্মত কি না।

এদিকে বদলি বিলম্বের পাশাপাশি এএসআই রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের বহুবিধ অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ অক্টোবর ১৪৫ ধারাসংক্রান্ত একটি নোটিশ জারির সূত্র ধরে এক ব্যক্তিকে থানায় এনে ‘পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন সখ্য রাখা এবং শিকলবাহা ক্রসিং এলাকায় রাতে তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্ব পালনকালে ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বদলি কার্যকর না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি চলে যাবেন।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এর মধ্যে কর্ণফুলী থানায় তিনজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন এবং থানাটিতে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে।

তবে অতীতে দেওয়া শোকজ বা বিভাগীয় ব্যবস্থার আলটিমেটাম বাস্তবে কতটা প্রয়োগ হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে বদলি আদেশের দীর্ঘসূত্রতার কারণ পরিষ্কার করার পাশাপাশি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...