বিজ্ঞাপন
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের থানা-সংলগ্ন সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের এক পক্ষে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান ও সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির দুই যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ও আজিজুর রহমান।
দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপুরে বিবদমান দুই পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ও মিছিল বের করে। মিছিল দুটি থানা-সংলগ্ন সড়কে পৌঁছে থানার সামনে মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।
খবর পেয়ে জামালগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষের পরও উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার উত্তর কামলাবাজ গ্রামের জুবায়ের আহমদ (২৯), দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়া (৩০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের কয়েল মিয়া (৩৮), উজান লালপুর গ্রামের শোয়াব আলী (৬১), ছেলাইয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩০), সেলিমগঞ্জ গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪৫), গজারিয়া গ্রামের সাজেদা আক্তার (২৪), কামলাবাজ গ্রামের ফারুক আহমদ (৩৫), দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের দ্বীন ইসলাম স্বপন (২৯), লক্ষ্মীপুর গ্রামের আশরাফ উদ্দিন (৪৯), সাচনাবাজার গ্রামের আব্দুল মোশাব্বির (৩০), লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. সামাউল (৪০), কামলাবাজ গ্রামের কামাল হোসেন (৭৫) এবং ইনছানপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৪২)।
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়জুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে সংঘর্ষে আহত বিএনপির ১৪ জন নেতাকর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেলের আঘাত রয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন, শনিবার দুপুরে বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দুটি থানার সামনের সড়ক অতিক্রম করার সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে। দীর্ঘদিনের দলীয় বিরোধের জেরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন করে এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...