বিজ্ঞানীদের মধ্যে ভিন্নমত
বিজ্ঞাপন
এ নিয়ে চলছে নানা গবেষণা ও বিতর্ক।
মেডিকেল কলেজ অব উইসকনসিনের রেডিয়েশন অনকোলজির অধ্যাপক জন মোল্ডারের নেতৃত্বে ২০১৩ সালে করা একটি পর্যালোচনা গবেষণায় বলা হয়, ওয়াই-ফাই রেডিয়েশনের প্রভাব পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও এটি মোবাইল ফোন বা রাউটার থেকে নির্গত নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ, তবু দীর্ঘ সময় ধরে এক্সপোজারের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
মূলত ওয়াই-ফাই ও মোবাইল ফোন তথ্য আদান-প্রদানের জন্য রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চমাত্রার বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় রেডিয়েশন ক্যানসার বা টিউমারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ওয়াই-ফাই রাউটারের তরঙ্গ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ত্বকের সামান্য সমস্যা ছাড়া বড় কোনো জটিলতা সৃষ্টি করে না।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কেনেথ ফস্টারের মতে, “ওয়াই-ফাই রাউটার আসলে খুব অল্প সময় তথ্য প্রেরণ করে। তাই যত দূরে থাকা যায়, শরীরে রেডিয়েশনের প্রভাব ততটাই কমে যায়।”
তবে সবাই একমত নন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জোয়েল মোস্কোভিটজ সতর্ক করে বলেছেন, প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমাত্রার রেডিয়েশনও স্নায়বিক সমস্যা, প্রজনন ব্যাধি ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC) মোবাইল ফোনকে ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। যদিও এখনো ওয়াই-ফাই সরাসরি ক্যানসারের কারণ—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, কারণ তাদের শরীর এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি এক্সপোজার তাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডিভাইস শরীর থেকে দূরে রাখা, ব্যবহার না করলে রাউটার বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত এক্সপোজার এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...