বিজ্ঞাপন
আর এদের খপ্পরে পরে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে নব দম্পতি ও তাদের পরিবার। এই দুইজন কাজী নিজেকে সরকারি কাজী বলে দাবি করে এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যক্রম।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ সরকার কাজী দাবিদার কেউবা বাল্যবিবাহ দেওয়াসহ অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আর দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় এমন ঘটনা ঘটতে থাকলেও এসব বিষয়ে তাকিয়েও দেখেন না প্রশাসনের কর্তারা। তাই দ্রুত এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বাট্টা জোড় ইউনিয়নে ইয়াকুবকে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই সরকারি কাজী হিসাবে ইয়াকুব হোসেন ওই ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমত অবস্থায় হঠাৎ করে কাজী ইয়াকুব হোসেনকে কোন কিছু না জানিয়ে তাকে তার নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিল করেন কর্তৃপক্ষ। এর সুযোগে তৎকালীন স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় কয়েক মাসের মাথায় মন্ত্রণালয় থেকে একই গ্রামের আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তি বাট্টা জোড় ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাগিয়ে নেন। এরপর বিষয়টি জানতে পেরে কাজী ইয়াকুব তার লাইসেন্স বহাল রাখার জন্য উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নম্বর- ৭৪৮/২৪। কাজী ইয়াকুব মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিলের আদেশে আবু সাঈদ নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্সটিও স্থগিত করেন।
এর প্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার নিকাহ রেজিস্ট্রারের সকল কর্যক্রম বন্ধের আদেশ দেন। কিন্তু আবু সাঈদ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি হঠাৎ করে ইয়াকুব উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলায় আবু সাঈদ তার পক্ষে রায় পেয়েছেন মর্মে এলাকায় প্রচারণা চালায়।
বাট্টা জোড় ইউনিয়নের সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী দাবিদার ইয়াকুব বলেন, আমি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বেশ ভালোভাবেই রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। হঠাৎ করে আমাকে কিছু না জানিয়েই মন্ত্রণালয় আমার নিয়োগ বাতিল করেন। এরপর স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় আবু সাঈদ ওই ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাগিয়ে নেন। পরে আমি উচ্চ আদালতে মামলা করলে আদালত আমার বাতিলকৃত লাইসেন্স স্থগিদ করেন এবং একই আদেশে আবু সাঈদ লাইসেন্স স্থগিদ করেন। এরপরেও আবু সাঈদ অবৈধভাবে এলাকায় রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবার এলাকায় নানান ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে তিনি আমার দায়ের করা মামলায় রায় পেয়েছেন। যদি আবু সাঈদ মামলায় রায় পেয়ে থাকে তাহলে আমি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছি বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য মতে আদালতে মামলা চলমান আছে। ইতি মধ্যেই লোকমুখে জানতে পেরেছি মামলার নাকি রায় হয়েছে। কার পক্ষে রায় হয়েছে সেটিও জানা যায়নি। আর আমরা কাছে এখনো কোনো রায়ের কপি আসেনি। রায়ের কপি দেখলে বলতে পারবো কে ওই ইউনিয়নের সঠিক কাজী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...