বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে মানুষ আজ অতিষ্ঠ। যে ব্যক্তি নিজে ভুল পথে আছে, সেও চায় তার সন্তান যেন একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজে বড় হয়। চাঁদাবাজ কিংবা কালো টাকার মালিকরাও মনে মনে একটি নিরাপদ ও সৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে—এটাই এই জাতির গভীর আকাঙ্ক্ষা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংযোগ ও নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভোটের আগের রাতে কেউ ৫০০ টাকা, কেউ এক হাজার টাকা কিংবা বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে দরজায় আসবে। প্রশ্ন হলো একদিনের সুবিধার বিনিময়ে কি মানুষ আবার গোলামি করবে, নাকি নিজের ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবে?
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল কালো টাকা এখন ভোট কেনার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নবীনগরের মানুষ এবার এই অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবে এই বিশ্বাস আমাদের আছে।
প্রশাসনের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে ডিসি ও এসপিদের সাক্ষী রেখেই। এর পরিণতি জাতি ৫ আগস্ট প্রত্যক্ষ করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভাইদের বলছি বেনজির, হারুনদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন। হারাম টাকা থেকে দূরে থাকুন। আজকের আপনার সিদ্ধান্তই ঠিক করবে আপনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শুধুই একটি ভোট নয় এটি ১৪ শত শহীদের রক্তের দায়। ইলিয়াস আলীর গুম, ৩০ হাজার আহত মানুষের যন্ত্রণা আর অসংখ্য পরিবারের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে ইতিহাস আবারও কঠোর রায় দেবে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সাংবাদিকরা সঠিক খবর পাঠালেও তা কেটে দেওয়া হয়। সমস্যা সাংবাদিকদের নয়, বরং মিডিয়া মালিকানার চরিত্রে। মিডিয়ার চরিত্র বদলাতে হবে, না হলে জনগণ সময়মতো মিডিয়াকেও লাল কার্ড দেখাবে।
সভা থেকে ড্রেজার সন্ত্রাস, বালু খেকো, মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিমুক্ত নবীনগর গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সৎ, গ্রহণযোগ্য ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় রিক্সা মার্কায় ভোট দিয়ে মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চল সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, সুপ্রিম কোর্ট শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল বাঁতেন, খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি মাওলানা এমদাদুল হক সিরাজী, নির্বাহী সভাপতি মাওলানা মাঈনুল ইসলাম খন্দকার, অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা, আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে নেতারা ভোটারদের সকাল সাড়ে সাতটায় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...