বিজ্ঞাপন
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোররাত থেকে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি শহরে ‘সমন্বিত’ হামলা চালায় জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তারা একযোগে স্কুল, ব্যাংক, বাজার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই ভয়াবহ হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ২২ সদস্য এবং ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই প্রদেশটিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
সহিংসতা দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘রাদ্দুল ফিতনা-১’ নামে একটি বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান শুরু করে। সেনাবাহিনীর দাবি, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমেই প্রদেশজুড়ে ২১৬ জন বিদ্রোহীকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানের শুরুতে বিদ্রোহীরা বেশ কিছু সরকারি ভবন ও পুলিশ স্টেশন দখল করে নিয়েছিল। বিশেষ করে মরুভূমিবেষ্টিত নুশকি শহর প্রায় তিন দিন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিদ্রোহীদের সেখান থেকে বিতাড়িত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তের সংযোগস্থলে অবস্থিত বেলুচিস্তান প্রদেশটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে চীনের অর্থায়নে নির্মিত গওয়াদার গভীর সমুদ্রবন্দরসহ একাধিক মেগা প্রকল্প সচল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠী বেলুচদের একটি অংশ অধিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে, যা বর্তমান অভিযানের মাধ্যমে আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...