Logo Logo

ফরিদপুর পৌরসভায় টেন্ডার দখলের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে


Splash Image

ফরিদপুর পৌরসভার ১৫টি হাটবাজার ও পৌর বাস টার্মিনালের বার্ষিক ইজারা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান এবং তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এদিন সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বঞ্চিত ঠিকাদারদের দাবি, নেতাকর্মীদের উপস্থিতির কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা বুথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের সময় নির্ধারিত ছিল। দরপত্র জমার সুবিধার্থে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভায় দুটি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, সকাল থেকেই নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মহড়ায় সাধারণ ঠিকাদাররা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ এবং পৌরসভা কার্যালয়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী অবস্থান নেন। কোনো সাধারণ ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে গেলেই প্রবেশপথে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ আনে।

আনিসুজ্জামান তুহিন নামে এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ করেন, বুথ এলাকায় সকাল থেকেই বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছিল। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকলে স্বচ্ছতা বজায় থাকত, কিন্তু অনেককেই গেট থেকেই ফিরে যেতে হয়েছে।

একইভাবে মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তিনি তার দরপত্র জমা না দিয়েই ফিরে আসতে বাধ্য হন।

অভিযোগের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ জানান, তিনি দুপুরে নিজের দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রচুর ভিড় থাকায় তার নিজেরই জমা দিতে বেগ পেতে হয়েছে। তবে কাউকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়াও একই দাবি করে বলেন, তিনি কেবল নিজের কাজে গিয়েছিলেন এবং কাউকে বাধা দেননি।

পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোহরাব হোসেন জানান, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মোট ৪১টি দরপত্র জমা পড়েছে। বাধার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের পর কেউ দরপত্র জমা দিতে এলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...