বিজ্ঞাপন
নিহত তন্নী টুঙ্গিপাড়ার চরগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে। তিনি একই গ্রামের জাফর খানের ছেলে আরিফ উল্লাহ খানের স্ত্রী।
নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর খান জানান, তন্নী ও আরিফ উল্লাহ খানের মধ্যে পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে আরিফ তন্নীর সঙ্গে দেখা করতে এলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে বিয়ে দেন। তবে বিয়ের পর তন্নীকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, গত রোববার তন্নী নিজের ইচ্ছায় শ্বশুরবাড়িতে যায়। পরদিন সোমবার সকালে বাবার বাড়িতে এসে জানায়, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার নামে থাকা দুই বিঘা জমি লিখে দিতে চাপ দিচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, যদি তারা সত্যিই তন্নীকে ভালোবাসে, তাহলে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। পরে তন্নী আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে তন্নীকে বিষ খাওয়ানো অবস্থায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তার বাবার বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে সেখান থেকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
জাহাঙ্গীর খান দাবি করেন, তার মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের বোন তানিয়া খানম বলেন, মঙ্গলবার সকালে তন্নী ফোন করে তাকে মারধরের বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে তাকে বিষ খাইয়ে তাদের বাড়ির সামনে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আইয়ুব আলী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...