Logo Logo

সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে আতঙ্কিত সাংবাদিক সমাজ, গ্রেপ্তারের দাবি।


Splash Image

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পৌর বিপণি মার্কেটে দিনে-দুপুরে এক প্রবীণ সাংবাদিকের কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ঘটনাটি ঘটে পৌর বিপণি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একুশে টেলিভিশন ও দৈনিক জনকণ্ঠ-এর সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আব্দুস সালামের অফিসে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ছাতক উপজেলার শক্তিয়ারগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। সাংবাদিক আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ইসলাম উদ্দিনের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

ওই সংবাদের কারণে তার ২ থেকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে—এমন দাবি তুলে ইসলাম উদ্দিন সরাসরি জেলা সদরে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলাকারীরা অফিসে ঢুকেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে এবং প্রকাশ্যে সাংবাদিকের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা হুমকি দিয়ে বলে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে “বড় ধরনের খেসারত” দিতে হবে।

হামলার সময় সন্ত্রাসীরা অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। উপস্থিত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক আব্দুস সালামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা পুরো মার্কেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় এবং চলে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়—চাঁদার টাকা না দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলা এবং প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটানো হবে।

দিনে-দুপুরে জেলা শহরের ব্যস্ত বিপণি মার্কেটে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের কার্যালয়ে এমন দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ইসলাম উদ্দিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় সুনামগঞ্জে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...