বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে আদিল পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে রাজমিস্ত্রীর জোগালির কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি উপজেলার পলক গ্রামের একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে কাজ করতে যান। কাজের একপর্যায়ে বাড়ির উঠানে বেঁকে যাওয়া একটি লোহার রড সোজা করার সময় তিনি রডটি ওপরে তুললে অসাবধানতাবশত সেটি ওপর দিয়ে যাওয়া ৩৩ কেভি বিদ্যুতের লাইনে স্পর্শ করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা সহকর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে কাজে থাকা আরেক যুবকও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহত আদিল দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। অল্প বয়সেই বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্ব নিতে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রীর জোগালির কাজ শুরু করেন। প্রতিদিনের উপার্জন দিয়ে তিনি মায়ের সংসারে সহযোগিতা করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আতাউর রহমান বলেন, “আদিল খুবই ভদ্র ও পরিশ্রমী ছেলে ছিল। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব নিতে সে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করত। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে।”
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পুলিশ পেয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জীবিকার তাগিদে অল্প বয়সে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা নির্মাণকাজের সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক লাইনের নিচে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...