বিজ্ঞাপন
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। তবে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে এখনো মাটি ভরাটসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দেরিতে কাজ শুরু হওয়া। তাদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতাও এ বিলম্বের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পরিচালিত ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে খালিয়াজুরীতে ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। পাউবোর কারিগরি সহায়তায় উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ১৪৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে প্রায় ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।
এসব বাঁধের ওপর নির্ভর করছে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এসব জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় তারা অকাল বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন। গাজীপুর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, “ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেলেও এখনো বাঁধের কাজ চলছে। চৈত্র মাসে হঠাৎ পানি এলে সারা বছরের কষ্টে ফলানো ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বাঁধ মজবুত না হলে সামান্য ঢলও সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেরিতে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া এবং ভৌগোলিক নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্পের অনেক পিআইসি সদস্য সময়মতো সরকারি বরাদ্দের অর্থ না পাওয়ায় নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। এতে অনেক স্থানে কাজের গতি ধীর হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, মাটি ভরাটের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ মাটি ভরাট এবং বাঁধের ওপর ঘাস লাগানোর কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “হাওর এলাকা থেকে দেরিতে পানি নামার কারণে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ কিছুটা বিলম্বিত হয়। ফলে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও পুরো কাজ শেষ করা যায়নি। তবে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে গত দুই দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ চলমান থাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ানো হয়েছে কিনা—এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...