Logo Logo

ওড়াকান্দিতে লাখো মতুয়া ভক্তের মহামিলন, শুরু হয়েছে স্নানোৎসব ও মেলা


Splash Image

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে মতুয়াবাদের প্রবর্তক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মহা-বারুণী মেলা। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট থেকে এই পুণ্যস্নান শুরু হয়, যা চলবে আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত।


বিজ্ঞাপন


আবির্ভাব তিথিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ ভারত ও বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখো মতুয়াভক্ত লাল নিশান উড়িয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে এলাকা প্রকম্পিত করে ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়িতে সমবেত হন। ভক্তরা হরি মন্দিরে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও মাতম শেষে শ্রীধাম ওড়াকান্দির কামনা সাগর ও শান্তি সাগরে পুণ্যস্নানে অংশ নিচ্ছেন। পাপ মুক্তি ও পুণ্য লাভের আশায় ফাল্গুন মাসের এই মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে এবার ১৫ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করছে ঠাকুর পরিবার।

এ বছর স্নানোৎসব উপলক্ষে মঙ্গলবার ব্রহ্মমুহূর্তে বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘের মহাসংঘাধিপতি ও ঠাকুর পরিবারের প্রবীণ সদস্য শ্রীমতি সীমাদেবী ঠাকুরের নেতৃত্বে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন ও পূজা-অর্চনা করা হবে। তিনি কামনা সাগরে স্নান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেবেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে ঠাকুরবাড়ির চারপাশের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেলা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

স্নানোৎসব ও মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর, জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান এবং পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ ইতিমধ্যে ওড়াকান্দি পরিদর্শন করেছেন। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকও নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়টি তদারকি করেছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকায় সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি এবং প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে ৬ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ভক্তদের শৃঙ্খলা ও প্রসাদ বিতরণে নিয়োজিত আছেন। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একাধিক মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮১২ সালের ১১ মার্চ কাশিয়ানীর সাফলিডাঙ্গা গ্রামে আবির্ভূত হন শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর। পরবর্তীকালে ওড়াকান্দি গ্রাম তাঁর সাধনা ও লীলাভূমিতে পরিণত হয় এবং সেখান থেকেই তিনি মতুয়াবাদ প্রচার করেন। তাঁর পুত্র শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর ওড়াকান্দিতে এই স্নানোৎসব ও বারুণী মেলার প্রচলন করেন, যা প্রায় ১৫০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা নিবেদন করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...