বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে জোটের নেতা-কর্মীরা প্রেসক্লাব থেকে পুরানা পল্টন মোড় পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, এই ধ্বংসাত্মক চুক্তির নেপথ্যে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষার তোয়াক্কা না করে করা এই চুক্তির রূপকারকে বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। নেতারা একে ‘জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেন।
গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের ভাষ্যমতে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিক্রমেই সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি সরকারকে অবিলম্বে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান বাম নেতারা। তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা মানেই জনগণের সম্মতি নয়; কারণ সাংবিধানিক নীতি অনুযায়ী সার্বভৌমত্ব-সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি সংসদে অনুমোদিত হতে হয়, যা এক্ষেত্রে মানা হয়নি।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি সরকার কি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করে থাকবে? তাঁরা মনে করেন, এই চুক্তি বহাল রাখা বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সাম্রাজ্যবাদী এই নীতি থেকে সরকার সরে না আসলে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের মুশতাক হোসেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা রাশেদ শাহরিয়ার। এছাড়া সমাজতান্ত্রিক পার্টির আবদুল আলী ও জাতীয় গণফ্রন্টের রজত হুদাসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...