Logo Logo

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ


Splash Image

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জানা যায়, সাইদুল ইসলাম রনি বর্তমানে নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করা, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আরিফুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে রনি দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে তিনি আবারও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নলছিটি উপজেলার তেতুলবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মল্লিকের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নলছিটি থানা ও বরিশালে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ১২ সেপ্টেম্বর নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৪৯৬) করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা (নং-৭৪) দায়ের করা হলে সেখানে সাইদুল ইসলাম রনিকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এক দোয়া মাহফিলে জেলার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অশোভন আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালে তিনি উত্তেজিত হয়ে হট্টগোল ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও ফেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও তার নাম রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কারণে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনের মামলাটি তদন্তে খারিজ হয়ে গেছে। অন্যসব অভিযোগও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...