বিজ্ঞাপন
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র মাসের এই তিথিতে যাদুকাটা নদীতে স্নান করলে গঙ্গাস্নানের সমতুল্য পুণ্য লাভ হয়। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। তবে উৎসবের পবিত্রতা ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে যানবাহন চালক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ শহরের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে মোটরসাইকেল ভাড়া ২৫০ টাকা এবং লেগুনা ও সিএনজি ভাড়া ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও চালকরা তা তোয়াক্কা করেনি। মোটরসাইকেলে জনপ্রতি ৩০০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য যানবাহনেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা পুণ্যার্থী কল্পনা দত্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এটা দেখার যেন কেউ নেই।"
অভিযোগের বিষয়ে চালকরা রাস্তা সরু থাকা এবং দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার দোহাই দিয়েছেন। এদিকে যাদুকাটা নদীর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নৌকার মাঝিদের কাছ থেকেও প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
মধ্যনগর থেকে আসা নৌকা মালিক জাকারিয়া জানান, রাতে নৌকা রাখার জন্য এক হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং টাকা না দিলে মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে। নৌ-পথেও ৪০ টাকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে।
মাঠে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা পুণ্যার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, মানুষের আধিক্যের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি চেষ্টা করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের হয়রানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
অদ্বৈত জন্মধাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, "মানুষের উপস্থিতি ছিল রেকর্ডসংখ্যক, কিন্তু পথের ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্যে আগত পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ধর্মীয় এই বৃহৎ আয়োজনে প্রশাসনের আরও কঠোর তদারকি প্রয়োজন ছিল।"
ধর্মীয় আবেগ আর বিশ্বাসের টানে লাখো মানুষ যাদুকাটায় সমবেত হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে এবারের স্নানোৎসব অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে এক তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...