Logo Logo

সুনামগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল কৃষক-জনতা, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি


Splash Image

সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। “হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন”-এর ব্যানারে আয়োজিত পৃথক গণ-সমাবেশ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অপসারণ, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার পশ্চিম বাংলাবাজার এবং বিকেলে ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজারে এসব গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন হাওর এলাকার কৃষক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন প্রক্রিয়াতেই অনিয়ম শুরু হয়। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে, ফলে বাঁধগুলো টেকসই হয়নি।

বক্তারা আরও জানান, বিভিন্ন পিআইসি প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সমাবেশে অকাল বৃষ্টিতে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসে। বক্তারা দাবি করেন, অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে লাখো কৃষক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এ ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরাসরি পাউবো ও প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন তারা।

সকালে দোয়ারাবাজারের সমাবেশে উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক হোসাইন মোহাম্মদ এমরাজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন আবু তাহের মিসবাহ। তিনি দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।

বিকেলে ছাতকের জাউয়াবাজারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সুজন তালুকদার। সেখানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও চরমহল্লা ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নের কয়েকশ’ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অংশ নেন।

গণ-সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত পিআইসি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার, সুনামগঞ্জ থেকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পর্যাপ্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান।

সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সুনামগঞ্জের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ বলেন, “হাওর আমাদের জীবন ও জীবিকার উৎস। এই হাওরের ফসল রক্ষার নামে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। কৃষকের অধিকার আদায়ে আমরা শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকব।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...