Logo Logo

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ


Splash Image

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার এক অফিস সহকারীর স্ত্রীকে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের নিয়মিত কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর কাঁঠালিয়া উপজেলার কর্মকর্তাকে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি নিয়মিত অফিস না করায় দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছিল।

এদিকে, কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না। ঘটনার দিন সকালে আনোয়ার হোসেন তার অসুস্থতার বিষয়ে কথা বলতে স্ত্রী রানী বেগমকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে আসেন এবং কর্মকর্তার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন।

বিকেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম কার্যালয়ে প্রবেশ করলে আনোয়ার হোসেন তাকে সালাম দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা সালামের উত্তর না দিয়ে উল্টো আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার হোসেনকে মারতে উদ্যত হলে তার স্ত্রী রানী বেগম বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। এ সময় কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে হাতের কাছে থাকা স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে রানী বেগমের মুখে সজোরে আঘাত করেন। এতে তার গাল ও থুতুনি কেটে মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রানী বেগম বলেন, “অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করার পর বিকেলে কর্মকর্তা আসলে আমার স্বামী সালাম দেন। কিন্তু তিনি উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে স্বামীকে মারতে গেলে আমি বাধা দিই। তখন তিনি স্ট্যাপলার দিয়ে আমার মুখে আঘাত করেন।”

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কাউকে মারধর করিনি, তারা নিজেরাই এমন নাটক সাজিয়েছে। আপনারা যা পারেন করেন।” এই বলেই তিনি কলটি কেটে দেন।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি কার্যালয়ে একজন নারী ও সহকর্মীর পরিবারের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...