বিজ্ঞাপন
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল (রবিবার) রাতে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে দিনমজুর খোকনের (৩২) গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর মন্ত্রীর পোল সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার পর লাশে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
সহিংসতার ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল (সোমবার) বিকেলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে সাজেদুল ইসলাম রাফসান (৭) নামের এক দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে গুরুত্বর আহত করা হয়েছে। এর আগে ২ এপ্রিল ছোটজীব নগর গ্রামে স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার হিমনের নেতৃত্বে পাইপ মিস্ত্রি শহীদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলায় শহীদের স্ত্রী আসমা বেগম ও শিশু কন্যা সায়েমা আক্তার গুরুতর আহত হন।
পৌরসভা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ১ এপ্রিল সকালে পাঁচগাঁও ইউনিয়নে সাবেক মেম্বার ও ব্যবসায়ী জালাল আহমেদকে আহত করে তার বাড়িতে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। পরকোট ইউনিয়নে হামলার শিকার হয়েছেন ঠিকাদার হোসেন। এছাড়াও মোহাম্মদপুর কালীরহাট বাজার, রামনারায়ণপুর ও নাহারখিলে পৃথক হামলায় জসিম উদ্দিন, আসাদুল আমিন মিঠু ও যুবদল নেতা হিরনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খিলপাড়া বাজারে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন মামুন মোল্লা ও নীরব নামের দুই ব্যক্তি।
নির্যাতিতদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নিচ্ছে না। উল্টো তদন্তের নামে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে সালিশি বৈঠকের পরামর্শ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, যার ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সহিংসতার বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ জানান, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ তদন্ত করে সত্যতা সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক- মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাসান, চাটখিল, নোয়াখালী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...