বিজ্ঞাপন
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের লক্ষ্যে ৭ লক্ষ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বরাদ্দ দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম ইতিমধ্যে জমি ভরাটের কাজ শুরু করেছেন। তবে সওজ বিভাগ বলছে, এই জমি সওজ-এর অধিগ্রহণকৃত এবং ভবিষ্যতে মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণের জন্য এটি অপরিহার্য।
গত ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৫/০৪/২০২৬ তারিখে (স্মারক নং: ৫৬৪/১(৪)) জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে তিনি জানান, বরিশাল-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনায় এই জমি অন্তর্ভুক্ত। ‘ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫’ অনুযায়ী কোনো অনুমতি ছাড়াই সওজ-এর জমি ব্যবহার ও জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু একই স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা করলেও সওজ-এর অনুমতির অভাবে তা বাতিল করা হয়েছিল।
প্রকল্প এলাকাটি একটি জলাশয় হওয়ায় এটি ভরাট করা ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জমির মূল মালিক কামরুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ করেন, “এই দাগের জমি সওজ অধিগ্রহণ করার পর বাকি অংশ আমাদের মালিকানায় রয়েছে। কোনো উন্নয়ন কাজ করতে হলে জমির প্রকৃত মালিকদের নোটিশ দেওয়া এবং সঠিক পরিমাপ করা নিয়ম, কিন্তু পৌরসভা তার তোয়াক্কা করেনি।”
ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম জানান, তিনি কার্যাদেশ পেয়েছেন বলেই কাজ শুরু করেছেন; জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখার দায়িত্ব পৌরসভার।
অন্যদিকে, পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, “শহরের যানজট নিরসনে একটি ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সওজ-এর আপত্তির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।”
সওজ-এর অধিগ্রহণকৃত জমিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে পৌরসভার এই নির্মাণকাজ নিয়ে বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...