বিজ্ঞাপন
ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, নিজ কার্যালয়ের দাপ্তরিক টেবিলে বসে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের বিল পাসের বিনিময়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করছেন।
ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাম্পাফুল ইউপি সচিব সাইদুর রহমান এবং কুশুলিয়া ইউপি সচিব কামরুজ্জামানের নিকট থেকে প্রকল্পের বিল তৈরির জন্য গুনে গুনে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিচ্ছেন মুস্তাফিজুর। এছাড়া মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছ থেকেও একইভাবে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তার কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। দম্ভোক্তি করে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চাকরি অনেক হয়েছে, এ পর্যন্ত আমার কেউ কিছু করতে পারেনি। আমি একা খাই না, উপর মহল পর্যন্ত সবাই ভাগ পায়। লিখে কোনো লাভ হবে না।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা গ্রামের আবুল কালামের পুত্র মুস্তাফিজুর রহমান ২০০৫ সালে প্রকল্পে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে আদালতের রায়ে চাকরি স্থায়ী করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মস্থলে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তালা উপজেলায় থাকাকালীন দুর্নীতির দায়ে তাকে খুলনার রূপসায় বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের তদবিরের মাধ্যমে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি কালিগঞ্জে যোগদান করেন। তার যোগদানের খবরে তখন অফিসের ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বদলি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনও করেছিলেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, নতুন কাজের চুক্তি বা কার্যাদেশ প্রস্তুত করতে মুস্তাফিজুরকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। বরাদ্দ বেশি হলে ঘুষের অঙ্কও বেড়ে যায়। টাকা না দিলে মাসের পর মাস বিল আটকে রাখা হয় বলেও তারা জানান। এমনকি সাধারণ মানুষ বাড়ির প্ল্যান অনুমোদনের জন্য গেলে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও প্রকৌশলীদের নাম ভাঙিয়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুর্নীতির মাধ্যমে মুস্তাফিজুর রহমান নিজ গ্রামে আলিশান দ্বিতল ভবনসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। সরকারি অফিসে বসে এমন প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ হিসাবরক্ষককে চাকরি থেকে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “তার বিরুদ্ধে অতীতেও অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক ভিডিওর বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদক- মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সাতক্ষীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...