Logo Logo

কার্ডের রাজনীতি শ্রমিকের ভাগ্যোন্নয়ন কতটা নিশ্চিত করছে, প্রশ্ন মাহমুদুর রহমান মান্নার


Splash Image

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবে শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে কতটা কার্যকর হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। সভাটির আয়োজন করে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে ফ্যামিলি কার্ড ও শ্রমিক কার্ড নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এগুলো প্রকৃত অর্থে মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা বা সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করছে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এসব উদ্যোগ কি বাস্তবিক অর্থে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগছে, নাকি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

সরকারি বিভিন্ন কার্ড প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে মান্না বলেন, “যারা পাওয়ার যোগ্য নয়, তাদের মধ্যেও ১৫ শতাংশ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হয়েছে”—যা বাস্তবায়ন ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে হলে কেবল কার্ড বিতরণ যথেষ্ট নয়; বরং জনগণ যেন দৃশ্যমান ও কার্যকর সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। “কার্ডের রাজনীতি দিয়ে নয়, জনগণকে বাস্তব সুবিধা দেওয়ার মধ্য দিয়েই কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে,”—যোগ করেন তিনি।

আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়—“শ্রমিকদের অধিকার মানবাধিকার: সম্মান জানান, প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হোন”। এতে ‘বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকার পরিস্থিতি: চ্যালেঞ্জ, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক মানপত্র উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে ২৬০টি ঘটনায় ৯৬ জন শ্রমিক নিহত, ১,০২১ জন আহত এবং ১৬৮ জন কর্মক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ১৩৯টি ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন। এই প্রবণতা শ্রমিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে মার্চ মাসে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান শ্রমিকদের জীবনমান ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের ইতিহাসে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো বঞ্চিত। তিনি শ্রমিক-মালিক বৈষম্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, মালিকরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে পারলেও শ্রমিকরা অনেক সময় ঢাকা মেডিকেলেও চিকিৎসার সুযোগ পান না।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শ্রমিক অধিকার উপেক্ষা করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রাজনীতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়—এই বার্তা সমাজে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা অনেক সংগঠন এখনো শ্রমিক অধিকারকে মূলধারার মানবাধিকার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে না, যা বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

তার বক্তব্যের পর জুলাই আন্দোলন এবং বকেয়া মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সাবেক সংসদ সদস্য ও শ্রমিকনেতা শাহ মো. আবু জাফর বলেন, দেশে প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিক অসংগঠিত থাকায় তারা মালিক ও রাষ্ট্র—উভয় পক্ষ থেকেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কর্মজীবী নারীর উপপরিচালক রাবিতা ইসলাম পোশাক খাতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ হ্রাস এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিকজোটের সভাপতি আবদুল কাদের হাওলাদার বলেন, ১৯৬৬ সালের আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা বারবার উপেক্ষিত হয়েছেন।

এছাড়া সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সমন্বয়ক ফয়েজ হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...