Logo Logo

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


Splash Image

অবিভক্ত বাংলার প্রবাদপ্রতিম নেতা এবং কৃষককুলের নয়নমণি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৭ এপ্রিল)। ১৯৬২ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকায় জননন্দিত এই জননেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান এই নেতার প্রয়াণ দিবসে জাতি আজ তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে।


বিজ্ঞাপন


দিবসটি পালনকল্পে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শেরে বাংলার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, বিশেষ মোনাজাত এবং তার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা।

শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তার অসামান্য অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে উল্লেখ করেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন শোষিত ও অবহেলিত কৃষক সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু। অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি যে মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তা তিনি সবার আগে অনুধাবন করেছিলেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই কৃষক সমাজের অধিকার ও স্বার্থ রাজনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নানামুখী নীতি বাস্তবায়ন করেন। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শিক্ষার প্রসারে তার অসামান্য অবদান সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ফজলুল হক কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের এক অবিসংবাদিত নেতা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার কাছেই তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তার মানবিক গুণাবলি, গভীর মমতা এবং আপসহীন রাজনৈতিক আদর্শ তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছিল।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি পুরুষ। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়াও তিনি যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শেরে বাংলার ভূমিকা ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন তিনি। এ ছাড়াও বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদখ্যাত ২১ দফার অন্যতম প্রণেতাও ছিলেন তিনি। শিক্ষানুরাগী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মূর্ত প্রতীক হিসেবে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...