বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি ঘরের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করলে আবুল বশর বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ বাধার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কাজটি বন্ধ রাখতে তিনি থানায়ও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, সর্বশেষ ঘটনাস্থলেই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কর্ণফুলী থানার এসআই পরিতোষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি, উভয় পক্ষের প্রতিনিধি এবং বিরোধপূর্ণ জমির ওয়ারিশসূত্রে মালিকপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, দাগ আরএস ৯৯০ এবং বিএস ৫৪৯/৫৫০ নম্বরভুক্ত জায়গাটির ওয়ারিশসূত্রে মালিক সুলেমান কবির ও হুমায়ুন কবিরের পরিবাররা। বৈঠকে উপস্থিত মালিকপক্ষ আবুল বশরকে উক্ত জমি ভোগদখল করে ঘরের কাজ সম্পন্ন করার মৌখিক অনুমতি প্রদান করেন। পাশাপাশি, আবুল হাশেমকে এ কাজে কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উপস্থিত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে সম্মতি জানান।
এদিকে পাশের আরেকটি জমির ক্রয়সূত্রে মালিক আবদুল মান্নান অভিযোগ করেন, তার জমিতেও একইভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেশী ও আবুল হাশেমের বোনের ছেলে মোহাম্মদ হানিফ অভিযোগ করে বলেন, আবুল হাশেম (প্রকাশ ‘হাত কাটা বাইল্লে’) স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে থাকেন এবং নিজের শারীরিক অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এক ঘটনায় জনগণ তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকেই তিনি ‘হাত কাটা বাইল্লে’ নামে পরিচিত।
এ বিষয়ে আবুল হাশেম (প্রকাশ—হাত কাটা বাইল্লে) জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় বসবাস করে আসছেন। তবে এর আগে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, জায়গাটি মূলত তাদের নয়। ভবিষ্যতে প্রকৃত মালিকানা দাবি নিয়ে কেউ এলে সেখান থেকে সরে যেতে হতে পারে বলেও তিনি মত দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার ওই বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
তবে এর আগে আবুল হাশেম জায়গাটি পৈত্রিক সম্পত্তি কখনো ক্রয়সূত্রে মালিক বলে দাবি করছিলেন পরবর্তীতে তার নয় বরং অন্যের মালিকানা জায়গা বলে স্বীকার করেন।
বৈঠকে উপস্থিত কর্ণফুলী থানার এসআই পরিতোষ বলেন, “আজকের বৈঠকের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।” তিনি আরও জানান, কোনো কাজ বন্ধ রাখার এখতিয়ার পুলিশের নেই; এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালত বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...