পুলিশ কনস্টেবল নূর উদ্দিন ও তার স্ত্রী মনি আক্তার।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১ মে) রাতে উপজেলার বাঘড়ি বাজারের ওয়ালটন প্লাজা সংলগ্ন মসজিদ গলি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মনি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার বামনকাঠি এলাকার খলিলুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী নূর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, নূর উদ্দিন গত ৫-৬ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে আত্মহত্যার খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে তারা ঘরের ভেতরে মেঝেতে মনি আক্তারকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
জানা গেছে, নূর উদ্দিন পূর্বে ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্স থেকে রাজাপুর সার্কেল অফিসে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের গানম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
নিহতের পরিবার জানায়, দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। নূর উদ্দিন বিভিন্ন সময় টাকার জন্য মনি আক্তারের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে এবং মনি আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
নিহতের পিতা খলিলুর রহমান জানান, রাতে নূর উদ্দিন তাকে ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেন এবং দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ঘরের দরজায় হ্যাজবল লাগানো থাকলেও তালা খোলা। ভেতরে প্রবেশ করে মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে বিষয়টি ৯৯৯ নম্বরে জানানো হয়।
নিহতের ভাই ওমর ফারুক অভিযোগ করেন, মনি আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নূর উদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মনি আক্তারকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত নূর উদ্দিন দাবি করেছেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। পরে ভয়ে তিনি সন্তানকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরের দুই পাশের বগল থেকে কোমর পর্যন্ত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...