ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৯ মে) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেয়ের কফিন ধরে বাবা–মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে পৌঁছালে সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা–বাবা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে একটি হায়েস গাড়িতে করে তারা বিমানবন্দরে আসেন। এ সময় তাদের শোকে বিহ্বল দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মরদেহবাহী কফিনটি বিমানবন্দরে আনার পর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে ডাকছিলেন, আবার কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মরদেহ বুঝে পাওয়ার পরপরই সেটি সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দাদা–দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে–০৫৮২ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...