বিজ্ঞাপন
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই গ্রামে প্রায় ২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি রয়েছে, যেখানে ধান, পাট, গম ও সরিষাসহ বিভিন্ন রবি শস্য উৎপাদিত হয়। এছাড়া পুকুর ও ঘেরের মাছ এবং গবাদি পশুর খামার থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। উৎপাদিত পণ্য মাথায় করে বহন করতে হওয়ায় যাতায়াত খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং পানির দরে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
শৈলদহ নদী ও তিনটি খালের সান্নিধ্যে থাকা সুজলা-সুফলা এই গ্রামটিতে মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গির্জা থাকলেও যাতায়াতের নূন্যতম পথ নেই। বর্ষাকালে কাদা ও জলাবদ্ধতায় গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশপাশের সব গ্রামে উন্নয়ন হলেও তাদের গ্রামে রাস্তা না হওয়ায় সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনসহ মুমূর্ষু রোগী পরিবহনে অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কষ্টের কথা জানিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম শেখ বলে, জমির আইল দিয়ে স্কুলে যেতে হয় এবং বর্ষায় কাদা-পানিতে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা এনায়েত মোল্লা জানান, মাত্র ১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মিত হলেই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান সম্ভব। এমনকি রাস্তার জন্য রাসেল মোল্লা, আতাউল্লাহ ও আলম শেখসহ অনেকেই স্বেচ্ছায় জমি দিতে রাজি হয়েছেন, ফলে জমি সংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই।
দুর্ভোগ লাঘবে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে শৈলদহ নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কাসেম আলী শেখের বাড়ি থেকে দক্ষিণ চৌরখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান, এলাকাবাসীর আবেদনটি পর্যালোচনা করে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রামবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রশাসন এই রাস্তাটি নির্মাণে আন্তরিক বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...