বিজ্ঞাপন
একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজটির নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষায়, “মনিষ বলের তেলেসমাতি”র মাধ্যমে নানা আশ্বাস, প্রভাব ও কৌশল দেখিয়ে অনেক শিক্ষককে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি স্থায়ী করা, এমপিওভুক্তি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে সময় পার হলেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাননি। ফলে কেউ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আবার কেউ চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক জানান,
“চাকরি ও এমপিওর আশ্বাসে আমরা অনেকেই ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। প্রতিবাদ করলেই চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়।”
এদিকে কলেজটিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও দিন দিন জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে শিক্ষক ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, কলেজটি ধীরে ধীরে একটি “পারিবারিক বলয়ে” পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ, প্রশাসনিক হয়রানি ও চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হয়। ফলে অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয় সচেতন মহল, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা কলেজটির সার্বিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি চলতে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...