বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে এই সফরটি এর আগে কয়েক দফায় স্থগিত করা হলেও, শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়েই চীনে সশরীরে উপস্থিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ে অবস্থান করবেন এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান সংঘাতের মধ্যে এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক উপদেষ্টা ও এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে ‘অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ চলছে, অন্যদিকে ইরানের কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিং ট্রাম্পকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছে—এটি বিরল একটি ঘটনা।
কাম্পবেলের মতে, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই নেতা—ট্রাম্প ও শি জিনপিং—নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষভাবে সচেষ্ট।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, গত ৪০ দিন ধরে ইরান ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে মার্কিন জোটের ব্যাপক বিমান হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ চলছে। চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের ওপর এমন আক্রমণের মধ্যেও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল না হওয়া বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুদ্ধের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। বেইজিং শুরু থেকেই ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসা তাদের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তিন দিনের এই সফর শেষে দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...