Logo Logo

জেনে নিন শিং ভাঙা পশু কোরবানি করা যাবে কিনা?


Splash Image

ছবি : সংগৃহিত

কোরবানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফজিলতময় ইবাদত। কোরবানির সঙ্গে আত্মত্যাগের মহিমা মিশে আছে। আদি পিতা আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল থেকে কোরবানির ইতিহাস শুরু হয়। এরপর মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ.) ও তার শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)–এর মহান আত্মবিসর্জনে কোরবানির ইতিহাস কিয়ামত পর্যন্ত উজ্জ্বল ও অম্লান থাকবে।


বিজ্ঞাপন


কোরবানির গুরুত্ব নিয়ে পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা হালাল পশু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৪)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমার কাছে কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত কিছুই কবুল হয় না, তবে আমার কাছে পৌঁছায় একমাত্র তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৭)

একদা জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.) কোরবানি কী? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন, কোরবানি হচ্ছে তোমাদের আদি পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনাদর্শ। সাহাবি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোরবানির ফজিলত কী? রাসুল (সা.) বললেন, পশুর পশমের পরিবর্তে একেকটি করে নেকি দেওয়া হয়।’ (মিশকাত, হাদিস : ১২৯)

রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই কোরবানিদাতার কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় এবং তার অতীতের সব গুনাহ মোচন করে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১/১৮০)

সব জায়েজ পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া যায় না বা কোরবানি আদায় হয় না। কোরবানি করার জন্য শরিয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট পশু নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে মোট ছয় প্রকার জন্তু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ। সেগুলো হলো- উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল।এগুলো ছাড়া অন্য পশু দিয়ে কোরবানি জায়েজ নেই। কোরবানি করার জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে। অবশ্য ছয় মাসের ভেড়া যদি দেখতে মোটাতাজা হয় এবং এক বছর বয়সের মতো মনে হয় তাহলে তা দিয়েই কোরবানি করা বৈধ। গরু-মহিষের হতে হবে পূর্ণ দুই বছর। আর উটের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে।

কোরবানির জন্য কেনা বা কোরবানির জন্য নির্ধারণ করা গরুর যদি জন্মগতভাবে শিং না থাকে বা শিং ভেঙে যায়, তাহলে এই গরু দিয়ে কোরবানি হবে কিনা?

ফেকাহবিদদের মতে, যে পশুর শিং ওঠেনি সে পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ। কোরবানি হওয়ার জন্য শিং থাকা জরুরি নয়। একইভাবে যে পশুর শিংয়ের সামনের অংশ ভেঙ্গে গেছে তা দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ। হুজ্জিয়াহ ইবনে আদী বলেন, আমি আলী রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম, শিং ভাঙা পশু দিয়ে কোরবানি করার বিধান কী? তিনি বললেন, এতে অসুবিধা নেই।

তবে যদি কোরবানির পশুর শিং যদি এমনভাবে উপড়ে যায় যে, তার মগজে ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। কিন্তু যদি মগজ পর্যন্ত না পৌঁছে, তাহলে শুধু শিং ভাঙার কারণে সেই পশু কোরবানির যোগ্য।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...