বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যমজ দুই ভাইয়ের মধ্যে মো. আতিকুর রহমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মো. আশিকুর রহমান ছিলেন ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। দুই ভিন্ন শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা করলেও অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে ছিল এক অভূতপূর্ব মিল। দুই ভাই-ই নিজ নিজ ব্যাচে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে 'ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট' হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এবার আতিকুর রহমান ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা’-তে এবং আশিকুর রহমান ‘অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি’-তে পিএইচডি গবেষণার জন্য মনোনীত হয়েছেন।
তাদের সহপাঠী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আতিক ও আশিক ক্যাম্পাসে অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাদের এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম, গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়নের মধ্য দিয়েই তারা নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে নিজেদের এই বৈশ্বিক মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করেছেন।
ববি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিল হোসাইন সুমন বলেন, “আজ তাদের এই সাফল্যের পদচিহ্ন শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়, বরং আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন দেখার সাহস এবং এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য প্রেরণা।”
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই দুই কৃতি শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন। তিনি লেখেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা গিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা কিংবা অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে জায়গা করে নিচ্ছে— এটি আমাদের জন্য গভীর গর্ব, আবেগ ও তৃপ্তির মুহূর্ত। তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে। এত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার্থীদের এই সফলতার সঙ্গী হতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। তারা বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতায় দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করবে, এটাই প্রত্যাশা। ওদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি; দেশকে মনে রেখো, দেশের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকো।”
নিজেদের এই দীর্ঘ পথচলা ও অনুভূতি সম্পর্কে আতিকুর রহমান বলেন, “আমাদের দুই ভাইয়েরই প্রথম থেকে ফিজিক্সের (পদার্থ বিজ্ঞান) প্রতি এক ধরনের বিশেষ টান ছিল। আমি প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স পাওয়ার পর এখানেই চলে আসি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছি। উচ্চশিক্ষার জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলাম, যার মধ্যে ৮টি থেকেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের অফার আসে। এর মধ্য থেকে র্যাংকিং ভালো হওয়ায় আমি ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডাকে বেছে নিয়েছি।”
অনুরূপ অনুভূতি প্রকাশ করে ছোট ভাই আশিকুর রহমান বলেন, “আমারও প্রথম থেকে ফিজিক্সের প্রতি আলাদা ভালোবাসা ছিল। শুরুতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচারে (কৃষি) সুযোগ পেলেও ফিজিক্সের টানে আমি পরবর্তীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমি উচ্চশিক্ষার জন্য মোট ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলাম। এর মধ্যে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিকে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হলো, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ও গবেষণার ক্ষেত্রটি আমার পূর্বের রিসার্চ ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে চমৎকারভাবে অ্যালাইন করে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা দুই ভাই এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া শেষ করে একই দেশে স্কলারশিপ পেয়েছি, এই অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...