বিজ্ঞাপন
রোববার (১৭ মে) বিকেলে সহকারী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে তাকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয় বলে জানা গেছে। মূলত একটি ঠিকাদারি কাজের বিল দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার তদবিরকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
প্রকৌশল দপ্তর ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সাইফুল মুন্সি নামে এক ঠিকাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বিজয় চব্বিশ হল' প্রভোস্ট ও অজুখানার ইলেকট্রিক লাইনের কাজ সম্পন্ন করেন। সেই কাজের বিল উত্তোলনের তদবির করতে বিকেলে ঠিকাদার সাইফুলকে সাথে নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মামুনের কক্ষে যান ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল। সেখানে গিয়ে তিনি বিল পেতে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেন এবং দ্রুত বিল ছাড় করার জন্য চাপ দেন। এ সময় সহকারী প্রকৌশলী মামুন জানান- বিলটি সরকারি নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেওয়া হবে। এই জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল কক্ষে থাকা একটি চেয়ার তুলে মামুনকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।
কক্ষে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কর্মকর্তা ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম একটি বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী মামুনের রুমে আসেন। মামুন তাকে প্রধান দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলে ওই ছাত্রনেতা আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিলের কাজ শেষ করার আলটিমেটাম দেন। মামুন আবারও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দপ্তরে কথা বলতে বললে, মিনহাজ একটি চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করতে যান। প্রথমে ওই কর্মকর্তা সেটি ঠেকিয়ে দিলেও, পরক্ষণেই দরজার পাশে থাকা আরেকটি চেয়ার দিয়ে তিনি মামুনকে আঘাত করেন।
ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, ছাত্রদল সহ-সভাপতি মিনহাজ সাগর এক ঠিকাদারের বিলের তদবির নিয়ে এসে আজই বিল দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তাকে নিয়ম অনুযায়ী বিল প্রক্রিয়াকরণ হবে জানালে এবং দপ্তর প্রধানের সাথে কথা বলতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি তাকে চেয়ার ছুড়ে মারেন এবং মিথ্যা দাবি করেন যে তিনি নাকি তাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেছেন। যাওয়ার সময় তিনি তাকে হুমকিও দিয়ে গেছেন। এই ঘটনার পর থেকে তিনি কর্মস্থলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঠিকাদার সাইফুল মুন্সির বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রকৌশলী মামুনের রুমে গিয়েছিলেন এবং দ্রুত বিলটি দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু মামুন উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে তার পরিচয় জানতে চান। এমন আচরণে লজ্জিত হয়ে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। তাকে চেয়ার ছুড়ে মারার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার সাইফুল মুন্সি বলেন, গত বছরের এপ্রিলে তাকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করানো হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় ১৩ মাস ধরে বিলের জন্য প্রকৌশলী মামুন তাকে সকাল-বিকেল ঘোরাচ্ছেন। বিল না দিয়ে তিনি তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন করছেন।
তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে আরও দাবি করেন, অফিসে যাওয়ার পর মামুন তাকে মুরশিদ আবেদিনের কাছে যেতে বলেন এবং রুম থেকে বের হতে বলেন। মিনহাজ সাগর তার পরিচিত ছোট ভাই হওয়ায় সাথে ছিল। তখন এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলেও মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন অর রশিদ জানান, তিনি এখনো অফিশিয়ালি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...