Logo Logo

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


Splash Image

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতি আক্তার (২২)–কে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী শাহীন মীর মালত (৩৪)–কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাঘা বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের মো. ফারুক মাতুব্বরের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজাহার মণ্ডলের পাড়া গ্রামের শাহীন মীর মালতের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে এই দম্পতির একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শাহীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর অনবরত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালাতেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে ২০২১ সালে নিহতের পরিবার শাহীনকে প্রায় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়। এরপরও পুনরায় তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবি তুলে সে নির্যাতন অব্যাহত রাখে বলে অভিযোগে বলা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে কোনো এক সময়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে ঘরের ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের চৌকিতে ফেলে রেখে আসামিরা সটকে পড়ে। পরদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের খবরের ভিত্তিতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে ৩১ জানুয়ারি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস প্রধান আসামি শাহীন মীর মালতকে একমাত্র অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানিতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই রায় প্রদান করেন।

ঘোষিত রায় প্রসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি স্পেশাল পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, “আদালতের এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই শাস্তির ফলে যৌতুকের মতো ঘৃণ্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজে একটি শক্ত ও সুদূরপ্রসারী বার্তা যাবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...