বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া আবদুল মান্নান জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটিয়েছেন। প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি বিয়ে করেন। তবে দাম্পত্য জীবনে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে একসময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, সংসারে সন্তান না থাকা এবং স্ত্রী তার সম্পদ বিক্রি করে চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হন। ধীরে ধীরে তার মানসিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, আবদুল মান্নানের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ ছিল। তবে জীবনের শেষ সময়ে তিনি চরম অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন কাটান। তার ভাই-বোন থাকলেও কেউ নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন না। স্থানীয় কয়েকজন যুবক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার দেখভাল করলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে আজ তারা ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণ করতে যান।
স্থানীয়রা জানান, মরদেহের দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ফেনী সদর উপজেলা প্রশাসন আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এক সময়ের স্বচ্ছল প্রবাসীর জীবনের এমন করুণ পরিণতি সমাজের মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...