Logo Logo

কুষ্টিয়ায় কথিত পীর হত্যা : জড়িত না থেকেও মামলার প্রধান আসামী ববি শিক্ষার্থী


Splash Image

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যা মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাবেক শিক্ষার্থী ও কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবুও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


খাজা আহমেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির খাজা আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জের ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে পীর শামীম হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন, যদিও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে খাজা আহমেদকে উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করতে রাজনৈতিকভাবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি তার সমর্থকদের ভয় না পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং দরবার শরীফে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অর্থ লুটপাটে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের মামলার আসামি করা হয়নি। বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপির কয়েকজন নেতার যোগসাজশে মামলার বাদীকে চাপ দিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে মামলা করানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও নিহত পীর শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, “আমি এসব বিষয়ে জানি না। এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারবো না, আমার আরেক ভাই হাবিবুর রহমান কথা বলবে।” পরে একই বিষয়ে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি একই বক্তব্য দেন।

অন্যদিকে, নিহতের আরেক ভাই হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি অফিসে রয়েছেন এবং এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দরবার শরীফে পীর আব্দুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরীফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার পরদিনই খাজা আহমেদ ফেসবুক লাইভ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন, তাকে মিথ্যাভাবে এই হত্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তার অভিযোগ ছিল, হামলার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের রক্ষা করতে পীর শামীমের পরিবারকে চাপ দিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খাজা আহমেদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, স্থানীয় জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রি, ইসলামপুর গ্রামের মো. শিহাবসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আমি দুই দিন হলো এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমিও এখন জানছি। মামলার কাগজপত্র দেখে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবো।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...