বিজ্ঞাপন
(০৯ জুলাই) বৃহস্পতিবার বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। নিহত আমির হামজা উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের লাখিরপাড় গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে শিশু আমির হামজা তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি মৎস্য ঘেরে চরে থাকা ছাগল আনতে গিয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর আচমকা একঝাঁক ভিমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। ঝাঁকটি শিশু আমির হামজাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করলে মা ও শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা শিশুটিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটি কিছুটা সুস্থ বোধ করায় দুপুরের দিকে স্বজনরা তাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন।
তবে বিকেল গড়াতেই আমির হামজা আবারও তীব্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার শরীরের দ্রুত অবনতি হতে থাকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্বিতীয়বারের মতো কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমির হামজাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটি বাড়ি ফিরে গেলেও পরবর্তীতে শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় সে পুনরায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়বার যখন তাকে হাসপাতালে আনা হয়, তার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে ফুটফুটে চার বছরের শিশু আমির হামজার এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে লাখিরপাড় গ্রামসহ গোটা কুশলা ইউনিয়নে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ, স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...