Logo Logo

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ, তেহরানে বিমান হামলা


Splash Image

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় আরোপ করার পর মার্কিন ‍যুদ্ধজাহাজে এক মার্কিন নাবিক

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে খারগ দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টাকারী একটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একইসঙ্গে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েকদিনের হামলার ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানেও হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তারা একটি খালি ট্যাঙ্কারকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে। জাহাজটি বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটির স্মোকস্ট্যাক লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তার আগে বুধবার সকালে ইরানের ‘গ্রেটার তুনব’ দ্বীপে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পৃথক এক দফা হামলা চালানো হয়েছিল। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পঞ্চম দিনে এসে হামলার পরিধি ইরানের রাজধানী তেহরান পর্যন্ত বাড়িয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাওয়ার ঠিক কয়েক দিন পরই এই ক্রমবর্ধমান হামলা শুরু হলো, যা একটি পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, “সাম্প্রতিক এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ-হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল।”

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আহভাজ শহরের আশেপাশের চারটি স্থান এবং হরমুজ প্রণালির প্রধান বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ইরানের সিরিক ও কেশম দ্বীপের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

গত শনিবার ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টা-পাল্টি হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হতো, যা এখন আবারো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর তাদের নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করে। এর জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেছে, “আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি হয় সবাই ভাগ করে নেবে, অন্যথায় সবার জন্যই তা বন্ধ থাকবে।”

উত্তেজনার এই নতুন ঢেউয়ের মধ্যে তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলারের ওপরে কেনাবেচা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আবারো দাবি করেছেন, ইরান ‘শিগগির পরাজিত হবে’। পেনসিলভানিয়ায় এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানিরা ‘খুবই মরিয়া হয়ে একটি সমঝোতা চাইছে’।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিটি উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিধি আরো বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরান যদি এই সমঝোতা স্মারক থেকে কোনো সুবিধাই না পায়, তাহলে আমাদের এটি মেনে চলার কোনো কারণ নেই।”

গালিবাফ আরো বলেন, তার দেশের নিরাপত্তা নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালিতে ‘ইরানি ব্যবস্থাপনা’ বজায় রাখার ওপর। তিনি যোগ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘অপরিহার্য ও অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে’ রয়েছে।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার একমাত্র উপায় হলো যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা স্মারক মেনে চলতে হবে।

তবে এত সংঘাতের মধ্যেও বুধবার রাতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে ইরানে আটক থাকা মার্কিন নাগরিক ডেনা কারারিকে মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ট্রাম্প বিষয়টিকে ইরানের ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুক্তি পাওয়া ওই নারী নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...