বিজ্ঞাপন
গোপালগঞ্জ পৌরসভা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ২০২১ সালে ৯ ওয়ার্ডের এই পৌরসভার আয়তন ও পরিধি বাড়িয়ে ১৫টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে পৌর এলাকায় প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ৪৫০ মানুষের বসবাস। পৌরসভায় কাঁচা-পাকা মিলিয়ে মোট ১৭৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, আগে শহরের আয়তন ছিল ১৩ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে তা বেড়ে ৩০ দশমিক ৭০ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। মোট ১৭৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১১৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার পাকা, ২৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাঁচা, ১৪ কিলোমিটার এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড), ১০ কিলোমিটার ডাবলুবিএম (ওয়াটার বন্ড ম্যাকাডাম) এবং ১০ কিলোমিটার ব্রিকস সোলিং সড়ক রয়েছে।
তিনি বলেন, পৌরসভার বর্ধিত অংশে তেমন উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এডিবি থেকে ১৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদাররা পাঁচটি সড়কের কাজ শুরু করেছেন এবং কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরইউটিডি নামে নতুন একটি প্রকল্প শুরু হচ্ছে। ওই প্রকল্পে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৬৫টি স্কিম জমা দেওয়া হয়েছে। অচিরেই প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হবে। সড়কগুলো নির্মাণ ও সংস্কার করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি জানান।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, গত জুলাই মাসে গোপালগঞ্জে ২৬ দিন বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে মোট ৬৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি।
স্থানীয়রা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কের পিচ উঠে ইট ও খোয়া বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পিচের অস্তিত্বও প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। সড়কে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা সড়কে অতিরিক্ত ঝাঁকির কারণে চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, লাল মিয়া সিটি কলেজ ও মাদ্রাসার পাশের সড়কটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। এই সড়ক দিয়ে কলেজ, মাদ্রাসা, জেলখানা, ডায়াবেটিস হাসপাতালসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের জন্য পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, শহরের মধ্যে ইসলামপাড়ার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক পানিতে ডুবে যায় এবং চলাচল করা যায় না। সড়কের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. দ্বীন ইসলাম শেখ বলেন, এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলের সময় পড়ে গিয়ে পানি-কাদায় পোশাক নষ্ট হচ্ছে। যানবাহনের অতিরিক্ত ঝাঁকিতে শরীর ও কোমরে ব্যথা হচ্ছে। এ দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চান তারা।
রিকশাচালক মো. নাসির মোল্লা বলেন, শহরের অধিকাংশ সড়ক রিকশা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা সড়কে রিকশা চালাতে গিয়ে উল্টে পড়ার পাশাপাশি টায়ার-টিউবও নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত ঝাঁকির কারণে যাত্রীরাও রিকশায় উঠতে চান না। এতে তাদের আয় কমে গেছে।
ইজিবাইকচালক কাবিল মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে গাড়ির এনার্জি লস বেশি হয়। স্বাভাবিকভাবে ফুল চার্জে একটি ইজিবাইক ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার চলার কথা থাকলেও ভাঙা সড়কে তা ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের বেশি যায় না। গর্তে পড়লে দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায়। ফলে দিনে দুইবার চার্জ দিতে হচ্ছে। এতে চার্জের খরচ বেড়ে আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, দেশে পিচঢালা সড়ক সাধারণত ৬০/৭০ গ্রেডের বিটুমিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়। এসব সড়কে দীর্ঘসময় বৃষ্টির পানি জমে থাকলে বিটুমিনের আঠালো গুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিটুমিন পাথর ও খোয়া ধরে রাখতে পারে না এবং কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, হাট-বাজার এলাকায় সড়কের ওপর তেল-মবিল পড়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশে পানি ও আবর্জনা ফেলা এবং বিভিন্ন কারণে পিচঢালা সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পৌর এলাকায় ইউনিব্লক ও আরসিসি সড়ক নির্মাণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...