বিজ্ঞাপন
যে কাজগুলো বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে, তা মাত্র দুই দিনে শেষ করার এই অলৌকিক ক্ষমতা প্রশংসার চেয়ে বেশি প্রশ্ন জন্ম দেয়। এর মানে একটাই— আমাদের প্রশাসন ও সরকারি সংস্থাগুলোর কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু সদিচ্ছার চরম অভাব। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ যাদের রুটিন দায়িত্ব, তারা কেবল সরকার প্রধানকে দেখানোর জন্য এই কৃত্রিম তৎপরতা চালাচ্ছেন।
জনমনে এখন বড় প্রশ্ন—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এসে এই ঝকঝকে-চকচকে রূপ দেখবেন, তিনি হয়তো ভাববেন চট্টগ্রামবাসী খুব আরামে আছে। কিন্তু এই সাময়িক ও লোকদেখানো চাকচিক্য উল্টো চট্টগ্রামের প্রকৃত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বাজেট বরাদ্দের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে না তো? কারণ, এর ফলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক আর নাগরিক দুর্ভোগের প্রকৃত চিত্রটি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
অবশ্য সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের চাওয়া খুব সামান্য। প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলেই যদি না চাইতেও রেলিং পাওয়া যায়, রাস্তা অবৈধ হকারমুক্ত হয়, লক্কড়-ঝক্কড় রাস্তা দ্রুত মেরামত হয়—তবে চট্টগ্রামবাসীর আকুল আবেদন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি প্রতি মাসে অন্তত একবার, তা না পারলে অন্তত ছয় মাসে একবার চট্টগ্রামে আসুন। আপনার আগমনে যদি এই শহর তার হারানো রূপ ফিরে পায়, তবে সেটিই হোক আমাদের সান্ত্বনা।
তবে শুধু বর্তমান সরকার নয়, বিগত প্রতিটি সরকারের আমলেও আমরা এই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখেছি। সরকার প্রধান এলেই নগরীকে কৃত্রিমভাবে সাজানো হয়, আর তিনি চলে গেলেই শহর আবার তার চেনা রূপ অর্থাৎ ধুলোবালি ও দুর্ভোগে ফিরে যায়। চট্টগ্রামবাসী এই সাময়িক ও লোকদেখানো চাকচিক্য চায় না; আমরা চাই জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং টেকসই ও পরিকল্পিত উন্নয়ন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...