বিজ্ঞাপন
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে পরিবারসহ চিকিৎসকের চেম্বারে ফিরে এসে রিনা রানী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলেন, “স্যার, এখন আমি ভালো আছি।” একজন চিকিৎসকের পেশাগত জীবনে যেকোনো উপহার, সম্মাননা বা প্রাপ্তির চেয়েও এমন একটি বাক্য কতখানি মূল্যবান, এই ঘটনা সেটিই যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, রিনা রানী দীর্ঘদিন যাবৎ হৃদরোগ সংক্রান্ত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। একাধিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে উপসর্গ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছিল, কিন্তু সমস্যার মূল সমাধান হচ্ছিল না। একপর্যায়ে এক শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শে তিনি ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. মো. সামিউর রহমান শাহ (সামী)-এর নিকট চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।
প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডা. সামিউর রহমান নিশ্চিত হন যে, রিনা রানীর মাইট্রাল ভাল্ব আশঙ্কাজনকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে, অর্থাৎ তিনি জটিল ‘মাইট্রাল স্টেনোসিস’ (Mitral Stenosis) রোগে আক্রান্ত।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চিকিৎসক রোগীকে জানান, কেবল ওষুধ প্রয়োগ করে ভাল্বের এই সংকোচনজনিত মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে রিনা রানীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পিটিএমসি (PTMC) পদ্ধতির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়া সংকুচিত মাইট্রাল ভাল্বের মুখ প্রসারিত করা সম্ভব।
চিকিৎসার সার্বিক প্রক্রিয়া, ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুবিধাগুলো রোগী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সমস্ত প্রক্রিয়া অনুধাবন করে রিনা রানী চিকিৎসকের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করেন এবং দৃঢ়তার সাথে বলেন, “স্যার, আমি সব প্রস্তুতি নিয়ে আসতেছি। আপনি আমার জন্য যা করার, তাই করে দেন।” রোগীর এই অগাধ আস্থা চিকিৎসককে যেমন অনুপ্রাণিত করে, তেমনি তাঁর ওপর এক গভীর দায়িত্ববোধ অর্পণ করে।
পরবর্তীতে নির্ধারিত দিনে সফলভাবে রিনা রানীর পিটিএমসি চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসার পরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি ঘটে এবং তিনি দীর্ঘদিনের কষ্টদায়ক উপসর্গগুলো থেকে মুক্তি পান।
সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর রিনা রানী তাঁর স্বামী ও সন্তানকে সাথে নিয়ে পুনরায় ডা. সামিউর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। দীর্ঘদিন পর সুস্থতার স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতাভরা হাসিমুখে চিকিৎসকের সামনে দাঁড়ানো রোগীর এই দৃশ্য ছিল এক মানবিক ও আবেগঘন পরিবেশের মুহূর্ত।
চিকিৎসা পেশায় ফুল, ফল কিংবা মিষ্টির মতো উপহার প্রাপ্তি নিত্যদিনের চিত্র হলেও, একজন রোগীর মুখ থেকে "আমি ভালো আছি" শুনতে পাওয়ার অনুভূতি যেকোনো জাগতিক উপহারের চেয়ে বহুগুণ মূল্যবান।
এ প্রসঙ্গে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. মো. সামিউর রহমান শাহ বলেন, চিকিৎসক তাঁর সর্বোচ্চ জ্ঞান ও মেধা দিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রকৃত সুস্থতা দান করার ক্ষমতা একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তার। চিকিৎসক কেবল তাঁর নির্ধারিত মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। রোগীর ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তা লাঘব করে তাঁকে সুস্থ চেহারায় পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দিতে পারাই একজন চিকিৎসকের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। এই ভালোবাসা ও সম্মান কোনো পদবি কিংবা পারিশ্রমিক দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।
রিনা রানীর সুস্থতার এই ঘটনাটি কেবল সফল একটি হৃদরোগ চিকিৎসার গল্প নয়; বরং এটি রোগীর আস্থা, চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ববোধ এবং চিকিৎসা পেশার সুমহান মানবিক দিককে উজ্জ্বলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। চিকিৎসকের দীর্ঘ পেশাগত জীবনে অসংখ্য প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার ভিড়ে "স্যার, এখন আমি ভালো আছি"—এমন কয়েকটি ছোট বাক্যই হয়ে থাকে এক নীরব ও চিরন্তন অর্জন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...