বিজ্ঞাপন
বর্তমানে একজন ব্যবসায়ী বৈধভাবে যেকোনো পরিমাণ সোনা আমদানি করতে পারলেও এর জন্য পূর্বানুমোদন, এনওসিসহ নানা ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়। জটিল ও সময়সাপেক্ষ এই প্রক্রিয়ার কারণে দেশে বৈধ পথে সোনা আমদানি কার্যত হয় না বললেই চলে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২১’ সংশোধন করে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ নামে নতুন নীতিমালা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়া চূড়ান্ত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একাধিক বৈঠক করেছে। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট সোনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিদেশ থেকে সোনা আমদানিতে হ্যান্ড ক্যারিংয়ের পাশাপাশি প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগও থাকবে। ১০ কেজি পর্যন্ত সোনা হ্যান্ড ক্যারিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীকে ইনভয়েস, পাসপোর্টের তথ্য, উৎস সনদ, বিশুদ্ধতার সনদ, ব্যাংকিং নথি ও পরিবহনসংক্রান্ত তথ্য বিমানে ওঠার আগেই ব্যাগেজ ঘোষণা ফরমে উল্লেখ করতে হবে।
প্রক্রিয়াটি সহজ করতে সরকার ‘ওয়ান স্টপ সলিউশন’ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করে কাস্টমস সোনা খালাসের ব্যবস্থা করতে পারবে।
তবে ১০ কেজির বেশি সোনা আমদানির ক্ষেত্রে ডিলার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের এনওসি নিতে হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় এনওসি প্রদানের সময়সীমা ১০ কার্যদিবস থেকে কমিয়ে দুই কার্যদিবস করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, বিদেশ থেকে সোনা আনার সুযোগ আগে থেকেই থাকলেও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল ছিল। বিষয়টি সহজ করার জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এবং সরকার এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে নীতিমালার বিষয়ে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি জানান, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে এতদিন সোনা আমদানি করা সম্ভব হয়নি। অনুমোদিত ডিলাররা আমদানি করতে চাইলেও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ভরিপ্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ত, যা ব্যবসায়িকভাবে টেকসই ছিল না।
এনামুল হক খান আরও বলেন, বৈধ আমদানির সুযোগ তৈরি হলে দেশে সোনার রপ্তানি বাজারেও দ্রুত প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে। তার মতে, এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি বাজার।
নীতিমালা চূড়ান্ত হলে সরকার নতুন করে অনুমোদিত ডিলার নিয়োগ দেবে। প্রকৃত সোনা ব্যবসায়ী ছাড়া অন্য কেউ ডিলার লাইসেন্স পাবেন না। বর্তমানে সোনার অনুমোদিত ডিলার-আমদানিকারকদের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। নতুন প্রস্তাবনায় এই ক্ষমতা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক সহজে আমদানি লাইসেন্স পেতে পারেন।
অন্যদিকে, চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ব্যাগেজ রুলস আরও কঠোর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা ব্যাগেজ রুলসের আওতায় কতটুকু সোনা আনতে পারবেন, তা নির্ধারণে বাজুস সরকারের কাছে পরামর্শ দেবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ভোক্তার পুরোনো সোনা বিক্রির ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পুরোনো সোনা বিক্রি করতে চাইলে আগে কেনার সময়ের রসিদ দেখাতে হবে। এর মাধ্যমে সোনার উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা সোনা যাতে দেশের অর্থনীতিতে প্রবেশ ও ব্যবহৃত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই পুরোনো সোনা বিক্রির সময় আগের মূসক চালান বা অর্থ গ্রহণের রশিদ দাখিলের বিধান রাখা হচ্ছে।
নতুন নীতিমালায় সোনা ব্যবসায় বাজুসের ভূমিকাও আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে। বিভিন্ন ধারায় সংগঠনটিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ডিলার-আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধন পেতে হলে ব্যবসায়ীকে অবশ্যই বাজুসের সদস্য হতে হবে এবং সদস্যপদ বহাল রাখতে হবে। অর্থাৎ বাজুসের সদস্য না হলে সোনা ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না।
উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। পরে ২০২১ সালে নীতিমালাটি সংশোধন করা হয়। এবার বৈধ আমদানি সহজ করা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে ফের নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...