বিজ্ঞাপন
ফরিদুল ইসলাম নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ী পাইলাভাঙ্গা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর মা ফরিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁর বাবা। ফলে পরিবারের দায়িত্ব নিতে দ্রুত একটি চাকরি পাওয়া ফরিদুলের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পাঁচ-ছয় বছর পর হঠাৎ ফরিদুলের শ্রবণশক্তিতে সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি তাঁর দুই পায়েও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি থেমে থাকেননি। নানা কষ্ট ও আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় সম্মাননাও অর্জন করেছেন তিনি।
শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে কম্পিউটার পরিচালনার বিভিন্ন কাজও শিখেছেন ফরিদুল। মাইক্রোসফট এক্সেল, ফটোকপি, ছবি প্রিন্টসহ কম্পিউটারের নানা কাজে তাঁর দক্ষতা রয়েছে। এসব বিষয়ে তাঁর সার্টিফিকেটও রয়েছে। কিন্তু শ্রবণ প্রতিবন্ধকতার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি তিনি।
ফরিদুলের স্কুলশিক্ষক শামসুল হক বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন। উপযুক্ত সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তাঁরাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। ফরিদুলের যথেষ্ট মেধা রয়েছে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সে কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজেও দক্ষতা অর্জন করেছে। সুযোগ পেলে সে ভালো কিছু করতে পারবে।
রামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিবন্ধী কোটা কিংবা বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে ফরিদুলের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এটি শুধু সহানুভূতির বিষয় নয়, বরং তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে যুক্ত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।
ফরিদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, সংসারের হাল ধরার সময় এখন তাঁর ছেলের। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে ফরিদুলের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে পরিবারটি উপকৃত হবে।
ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমার একটাই চাওয়া, সরকার বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমাকে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমি সম্মানের সঙ্গে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারব।”
প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শিক্ষাজীবন শেষ করা ফরিদুলের এখন অপেক্ষা শুধু একটি সুযোগের। তাঁর প্রত্যাশা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল্যায়ন করে কোনো প্রতিষ্ঠান তাঁকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথটি সহজ করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...