বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরগুলোর ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রশাসন থেকে একাধিকবার প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের কথা বলা হলেও তা কখনো বাস্তব রূপ নেয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষভাগে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যাদের কাজ ছিল ‘কনভোকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরি করা। তবে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট পার হয়ে গেলেও নির্দেশিত তারিখে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য খবর মেলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত বছর পূর্তিতে অর্থাৎ ২০১৮ সালে তৎকালীন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সেই প্রাথমিক আলোচনার পর কার্যক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
এরপর ২০২২ সালের ২১ জুন তৎকালীন উপাচার্য রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসে। তবুও ঝুলে থাকে মূল আয়োজন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন রুটিন উপাচার্য ওই বছরের মধ্যেই সমাবর্তন সম্পন্ন করার দৃঢ় আশ্বাস দেন। তখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী তাদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছিলেন। ಅದೇ বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে মূল অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণের বার্তা দেন। রাষ্ট্রপতিও এতে সম্মতি জানান। তবে ২০২৪ সাল গড়ালেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে উঠে আসে সমাবর্তন না হওয়ার গভীর ক্ষোভ। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৩টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে ৮টি ব্যাচ সম্পূর্ণ একাডেমিক পাঠ সম্পন্ন করলেও কোনো সমাবর্তনের মুখ দেখেনি ববি। প্রায় ১৪ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী তখন সমাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন।
সনদ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক সাবেক শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, মূল সনদের অপ্রাপ্তির কারণে চাকরি লাভ ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে তিনিসহ বহু শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা ও সমাবর্তন না হওয়া নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “অসংখ্য স্মৃতি ও স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছিলাম, ইচ্ছা ছিল একদিন কালো গাউন পরে বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসে ফিরব। ইতোমধ্যে ৯টি ব্যাচ বের হয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে। এমনকি সমাবর্তনের মাধ্যমে সন্তানের প্রাপ্তি উদযাপনের মুহূর্ত দেখার সুযোগ হারিয়েছেন অনেক অভিভাবক। এটি কেবল কোনো উৎসব নয়, শিক্ষাজীবনের ত্যাগের স্বীকৃতি। আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবর্তন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির জানান, প্রতি বছর সমাবর্তন হওয়া উচিত হলেও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে বর্তমান প্রশাসন এই বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং খুব শীঘ্রই প্রথম সমাবর্তন বাস্তবায়নে ইতিবাচক আপডেট পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে Registar এর বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ। তিনি বলেন, “আমরা এখনো সমাবর্তন নিয়ে কিছু চিন্তা করি নি। আমাদের কাজের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে উন্নয়ন ও মৌলিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সেগুলো শেষ করে আমরা পরবর্তীতে সমাবর্তনের দিকে নজর দেব। তাছাড়া সমাবর্তন আয়োজনের জন্য পরিপাটি ক্যাম্পাস প্রয়োজন, যা বর্তমানে এখানে কষ্টসাধ্য। এই মুহূর্তে আমাদের মূল পরিকল্পনায় সমাবর্তন নেই। জানুয়ারি মাসে গিয়ে আমরা বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তা করতে পারি।”
উপাচার্য ও প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও সাবেক গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষাজীবনের গৌরবময় অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এখন দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...