Logo Logo

টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রীদেরকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত


Splash Image

ইনসেটে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুক।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং একা ডেকে বিভিন্ন ধরনের অশালীন আচরণের অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুক ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন শিক্ষক ফারুকুজ্জামান। এ ছাড়া ছাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা, ক্লাস শেষে খাতা দেখার কথা বলে একা যেতে বলা এবং পোশাক ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে এবং শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের শাস্তি ও বদলির দাবিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার এবং ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম ঘটনাস্থলে যান। পরে তাদের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যায়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বর্ষার অভিযোগ, শিক্ষক ফারুক বয়ঃসন্ধিকাল, ওড়না ছাড়া ভালো লাগা এবং পালস মাপার কথা বলে বোরকা ও জামা খোলার মতো বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এর আগেও ছাত্রীদের নিয়ে খারাপ কথা বলার জন্য তিনি অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে দাবি করে দ্রুত তার শাস্তি ও বদলি দাবি করে বর্ষা।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতি সরকার বলেন, শিক্ষক ফারুক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ভালোলাগা-খারাপ লাগা নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন। বিদ্যালয় শেষে রাস্তায় চলার সময়ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী ফারিয়া বলেন, শিক্ষক ফারুক শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের ‘সোনা, ময়না, পাখি, চুলখোলা, লিপস্টিক’ ইত্যাদি নামে সম্বোধন করতেন। মেয়েদের পোশাক ও ঠোঁট নিয়েও মন্তব্য করতেন। পড়ানোর সময় আবাসিক হোটেল নিয়েও ছাত্রীদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলতেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন বলে অভিযোগ তার।

শিক্ষার্থী লুনা, মারিয়াম জামান তোহা, সাদিয়া, মোহনা, আশামনিসহ আরও কয়েকজন অভিযোগ করেন, শিক্ষক ফারুক ছাত্রীদের সঙ্গে এমন ভাষায় কথা বলতেন, যা কোনো শিক্ষকের ব্যবহার করা উচিত নয়। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা তাদের যথাযথ সম্মান করেন। তাই অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত শাস্তি ও বদলি দাবি করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের শাস্তি ও বদলির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। পরে ইউএনওর আশ্বাসে তারা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে। ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষক ফারুককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া ইউএনও মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...