বিজ্ঞাপন
চলতি বছর তিথি অনুযায়ী সপ্তমী পূজা দুই দিনব্যাপী পড়ায় উৎসবের ব্যাপ্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৬ দিনে। আগামী ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই মহোৎসবের।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পঞ্চমী সন্ধ্যায় সায়ংকালে দেবীর বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, দক্ষিণায়নে নিদ্রিত দেবীর ঘুম ভাঙাতে এই অকাল বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ত্রেতাযুগে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করতে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবীর এই অকালবোধন করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এ পূজাকে বলা হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।
গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় এ বছর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে মোট ১ হাজার ২৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। শহরের সাহাপাড়া, সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালীবাড়িসহ প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মণ্ডপ দৃষ্টিনন্দন তোরণ, থিমভিত্তিক প্যান্ডেল এবং নজরকাড়া আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সিকদার জানান, মহালয়ার দিন থেকেই দেবী কন্যারূপে ধরায় আসেন। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিসর্জনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য ভক্তদের কাছ থেকে বিদায় নেবেন দেবী।
পঞ্জিকা অনুসারে দেবীর আগমন ও গমন প্রসঙ্গে সাহাপাড়া মন্দিরের পুরোহিত দীপংকর চক্রবর্তী বলেন, "দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যে এসেছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়), যার ফল ‘ছত্রভঙ্গ’—অর্থাৎ সামাজিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে দেবী ফিরে যাবেন নৌকায় চড়ে, যার ফল ‘শস্য বৃদ্ধিস্থথাজলম’। এর অর্থ ফলন বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে দেশ সমৃদ্ধ হবে। শাস্ত্র মতে আগমন ও প্রস্থানের বাহন ভিন্ন হওয়া একটি শুভ ইঙ্গিত।"
এদিকে পঞ্চমী থেকেই মণ্ডপগুলোতে নেমেছে দর্শনার্থীদের ঢল। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অরিন্দম সরকার জানান, মণ্ডপগুলোর আধুনিক আলোকসজ্জা ও ভক্তিমূলক আবহ তরুণ প্রজন্মের মাঝে অনন্য উৎসবের আনন্দ তৈরি করেছে। শনিবার সকালে নবপত্রিকা প্রবেশ ও সপ্তমীবিহিত পূজার মাধ্যমে উন্মোচিত হবে মাতৃরূপী দশভুজার পূর্ণ রূপ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...