বিজ্ঞাপন
জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি নিজস্ব ৩ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল 'কিং সুগার' ও 'সূর্য ডিম' জাতের প্রায় ৬ হাজার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৬০ দিন অতিক্রম করেছে; আর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই এই সুস্বাদু রঙিন তরমুজ বাজারে বাজারজাতকরণের উপযোগী হয়ে উঠবে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় কৃষক ওমর আলী দৈনিক ভোরের বাণীকে জানান, "পূর্বে আমি মূলত শসার চাষ করতাম। ইউটিউবে মাচায় রঙিন তরমুজ চাষের আধুনিক কৌশল দেখে ডগাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার্বিক পরিচর্যায় আমার এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আবহাওয়া ও বর্তমান চিত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮ হাজার কেজি ফলনের আশা করছি। বাজারে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে সকল খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৯ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ থাকবে।"
অসময়ে এই ব্যতিক্রমী ও লাভজনক কৃষি উদ্যোগ দেখে স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরাও অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক জুলফিকার আলী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এলাকায় চিরাচরিত ঐতিহ্য অনুযায়ী ধান, পাট ও ভুট্টা চাষ করা হতো। অসময়ে মাচায় ঝুলন্ত রঙিন তরমুজের বাম্পার ফলন দেখে আমরা সবাই অভিভূত। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত লাভজনক মনে হওয়ায় আগামীতে আমি নিজেও এভাবে তরমুজ চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
কৃষক ওমর আলীর এই আধুনিক উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়েরা মন্ডল জানান, অসময়ে রঙিন তরমুজের এমন সফল চাষ ওমর আলীর এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বর্তমানে বাজারেও এই ফলটির দারুণ চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তাঁকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...