বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়েরের পর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নোটিশ দিতে গিয়ে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রতিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মাইজ্জা ফকিরের বাড়ি এলাকায় সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে মালিক হিসেবে ভোগদখলে রয়েছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা স্থানীয় আবদুল গফুর ওরফে চান মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিপক্ষ ওই জমির একটি অংশ চলাচলের রাস্তা হিসেবে দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দিতে শুরু করে। এরপর থেকে বিভিন্নভাবে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আসমা বেগম (৪০)।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ওই দিন দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আবদুল গফুর চান মিয়া, আবদু সাওর, নুরু উদ্দিন ও মোহাম্মদ খোকন তাঁদের বসবাসের জায়গা থেকে চলাচলের রাস্তা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় আসমা বেগম এবং তাঁর দুই ছেলে মামুন ও সুমনকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মেরে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও জিডিতে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে প্রতিপক্ষ দাবিকৃত জমির পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তাঁরা। তবে বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এরই মধ্যে আবদুল গফুরসহ তিনজন বাদী হয়ে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, তাঁর ছেলে মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন বলে সংশ্লিষ্ট নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (মহানগর), চট্টগ্রামের মিস মামলা নম্বর ১৪৫৬/২০২৬-এর সূত্রে কর্ণফুলী থানার এএসআই মো. রুহুল আমিন উভয় পক্ষকে বিরোধীয় সম্পত্তিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, চরলক্ষ্যা মৌজার আরএস ৫৯৯ দাগ ও বিএস ৯৩৫ দাগের অন্তর্ভুক্ত জমির একটি অংশ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো কাজ থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নোটিশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নোটিশে তারিখসংক্রান্ত অসংগতি দেখা যায়। নোটিশে আদালতের স্মারকের তারিখ ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও নোটিশটি ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রদান করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তারিখ উল্লেখে ভুল হওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নোটিশে ভুল তারিখ উল্লেখের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে নোটিশ প্রদান করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এএসআই মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের চার-পাঁচজন নারী-পুরুষ।
তাঁদের অভিযোগ, বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চালালে থানায় তুলে নিয়ে ‘পিঠের চামড়া তুলে নেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ ধরনের বক্তব্যে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আইন প্রয়োগের নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কেন এভাবে ভয়ভীতি দেখাবেন? তাঁরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার এএসআই মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি এ ধরনের কিছু বলিনি। আমি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে এসেছি।’
অন্যদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল গফুর ওরফে চান মিয়া বলেন, ‘চাঁদা দাবি করেছি বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। এটি আমার কিনা ও পৈতৃক জায়গা।’
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করে তাঁরা ভোগদখলে রয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ কখনো চাঁদা দাবি, কখনো রাস্তার জায়গা দাবি এবং পরবর্তীতে মামলা করে তাঁদের নির্মাণকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এতে তাঁরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের যেকোনো বৈধ নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের সুযোগ নিয়ে কাউকে হয়রানি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা উচিত নয়।
এ ঘটনায় চাঁদা দাবি, মারধর, নির্মাণকাজে বাধা এবং পুলিশি হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
তবে বিরোধীয় জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল ও চলাচলের রাস্তার দাবির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...