বিজ্ঞাপন
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও মাঠের ফুটবল এখনই ছাড়ছেন না পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিতে গিয়ে রোনালদো জানান, পর্তুগালের ঐতিহাসিক ৭ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ‘এটা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কারণ, কিছু সিদ্ধান্ত শুধু বিবেক দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়ে নিতে হয়।’
দীর্ঘ পথচলায় পর্তুগালের কোটি ভক্ত-সমর্থকের ভালোবাসার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোনালদো। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি যদি কখনো আপনাদের খুশির কারণ হয়ে থাকি, আমার কোনো গোল উদযাপনে যদি কাউকে জড়িয়ে ধরে থাকেন, দুশ্চিন্তা ভুলে নিজের দেশকে নিয়ে গর্ব করে থাকেন, তাহলে এটাই আমার সার্থকতা।’ ভিডিওবার্তার সঙ্গে প্রকাশিত বার্তায় জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের এই অভিযাত্রায় পাশে থাকা পরিবার, সতীর্থ, কোচ, স্টাফ ও বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের ধন্যবাদ জানান তিনি। ক্যাপশনে আবেগভরা কণ্ঠে তিনি যোগ করেন, ‘পর্তুগাল সব সময় আমার অংশ হয়ে থাকবে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে রোনালদোর নাম লেখা থাকবে এক অনন্য চূড়ায়। ২০০৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল তার। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি গড়েছেন একের পর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি। পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে করেছেন রেকর্ড ১৪৬ গোল—পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করার বিশ্বরেকর্ড দুটিই এখন পর্যন্ত তার দখলে।
ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দেশকে শিরোপার স্বাদ এনে দিতেও তিনি ছিলেন অগ্রগামী। তার অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) জিতেছিল পর্তুগাল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তার হাত ধরেই উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল সেলেকাওরা। নভেম্বরের উইন্ডো শেষেই থামবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেই চিরচেনা গর্জন, বিদায় নেবে বিশ্ব ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...