বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাদের এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ছাড়পত্র বা টিসি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো—স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান, রিয়াজুল মুন্সি; অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউল করীম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ কাজী।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে টিফিনের বিরতির পর স্কুলের ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দেয়। সে সময় তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। উপস্থিত কেউ ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৭ অক্টোবর স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) তদন্ত কমিটি প্রধান শিক্ষকের নিকট তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এরপরই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে একটি বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রতিবেদন গত বুধবার প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক বলেন, “গত ৬ অক্টোবর স্কুলের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু শিক্ষার্থী স্লোগান দেয়। ওই সময় আমি নামাজে ছিলাম। নামাজ শেষে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে অন্য শিক্ষকদের কাছে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করি। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষের এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। গাজী আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, “এটি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। একটি ভুলের কারণে পড়াশোনা ও জীবন ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।”
অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে ‘গুড ডিসিশন’ বললেও কেউ কেউ আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মফিজুর রহমানসহ কিছু নেটিজেন এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহিস্কৃত এই শিক্ষার্থীদের পক্ষেও অনেককে বাহবা ও সমর্থন জানাতে দেখা গেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...