Logo Logo

ডোমারে গোপন বিয়ে ও স্ত্রীকে মারধর: আইনি নোটিশের পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে স্বামী


Splash Image

সেলিম রেজা, নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমারে প্রথম স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর, যৌতুক দাবি এবং অনুমতি ছাড়াই গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি মো. পারভেজ হাসান (মোতালেব) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণের পর রবিবার (৮ নভেম্বর) আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডোমার আমলী আদালত-৩-এর বিজ্ঞ বিচারক রাহেনুল ইসলাম চৌধুরী এই আদেশ প্রদান করেন (সি.আর. মামলা নম্বর- ৪৮৭/২০২৬)।

মামলার বিবরণ ও আইনজীবীর পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিয়াহ ও রেজিস্ট্রিকৃত নিকাহনামা অনুযায়ী ডোমারের ময়না আক্তারের সঙ্গে মো. পারভেজ হাসানের বৈধ বিবাহ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে পারভেজ হাসান চাকরির সুবাদে সৌদি আরব গমন করলে, ৪ নম্বর অভিযুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছাঃ সেলিনা বেগম সুমির সঙ্গে তাঁর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে পারভেজ প্রথম স্ত্রী ময়না আক্তারের কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই গোপনে ওই শিক্ষিকাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের তীব্র প্রতিবাদ করা এবং ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে গত গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আসামিরা একত্রিত হয়ে বাদী ময়না আক্তারকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এমনকি তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়। এ সময় স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেন।

আইনি লড়াই ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অংশ হিসেবে, নীলফামারী-১ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম এবং মামলার বাদী ময়না আক্তারের আইনি প্রতিনিধির নির্দেশক্রমে গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মতিউর রহমান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন।

আইনি নোটিশের মাধ্যমে প্রধান আসামির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি, অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রী তথা সহকারী শিক্ষিকা সেলিনা বেগম সুমির বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে হুশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাপ্তরিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...